শনিবার (২৯ মার্চ) ফায়ার সার্ভিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সম্প্রতি দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশে সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়, যেগুলোর রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৪। এর ফলে উক্ত দুটি দেশ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বাংলাদেশেও একই মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় ভূমিকম্প মোকাবিলায় সকল পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর নিচের নির্দেশনা প্রদান করেছে:
(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ করা;
(২) ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া;
(৩) সকল বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা;
(৪) গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত করা;
(৫) ভূমিকম্পের সময় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে করণীয় বিষয়ে নিয়মিত মহড়া ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা;
(৬) জরুরি টেলিফোন নম্বর (ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসপাতাল ইত্যাদি) ব্যক্তিগত ও সকল ভবন বা স্থাপনায় সংরক্ষণ এবং তা দৃশ্যমান স্থানে লেখা;
(৭) ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে দুর্যোগকালীন কার্যকর ভূমিকা পালন করা;
(৮) জরুরি ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (টর্চলাইট, রেডিও, বাঁশি, হ্যামার, হেলমেট, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ঔষধ, ফার্স্ট এইড বক্স, শিশু যত্নের সামগ্রী ইত্যাদি) বাড়িতে সংরক্ষণ করা;
(৯) তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এই বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রেখেছে। আসুন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সতর্কতায় ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সীমিত রাখি।